• Developed by : BDIX ROOT
  • Uncategorized

    ইরানে হামলা কেবল পরমাণু ধ্বংস নয়, লক্ষ্য ইসলামি প্রজাতন্ত্রকেই পতন ঘটানো

      প্রতিনিধি ১৭ জুন ২০২৫ , ১০:৫৬:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ

    আব্দুল আউয়াল-প্রতিবেদক:

    মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিশ্ব। গত ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল-ইরান সরাসরি সংঘাতে প্রতিদিনই বাড়ছে উত্তেজনা, বিস্তৃত হচ্ছে রণক্ষেত্র। ইসরায়েল শুরুতেই দাবি করেছিল, তারা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে চায়। কিন্তু হামলার ধরন, লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন, এবং নেতাদের ভাষ্য বিশ্লেষণ করে এখন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরাও বলছেন—এই যুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রকেই দুর্বল ও পতন ঘটানো।

    যুদ্ধের সূচনা: ১৩ জুনের আঘাতেই পরিবর্তন

    যুদ্ধের প্রথম দিনই ইসরায়েল বড় পরিসরের বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় ইরানের একাধিক স্থাপনায়। পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র (নাতানজ, ফরডো), সামরিক ঘাঁটি এবং IRGC (ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী)-এর সদর দপ্তরও আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন:

    > “We struck the senior command, senior scientists… we struck nuclear installations… Operation Rising Lion will continue for as many days as it takes.”

    এই বক্তব্যে পরমাণু স্থাপনার পাশাপাশি সামরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বকে টার্গেট করার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। হামলার ধরনে ‘রেজিম চেঞ্জ’ পরিকল্পনার ইঙ্গিত এরপরের দিনগুলোতে দেখা যায়, ইসরায়েল শুধু পরমাণু কেন্দ্রে হামলা করছে না, বরং ইরানের সামরিক গোয়েন্দা ভবন, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদর দপ্তর, এমনকি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার ভবন এবং ধর্মীয়-রাজনৈতিক প্রতীকের ওপরও হামলা চালিয়েছে।

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন:

    > “We will peel away the Iranian snake’s skin in Tehran… We are targeting not just nuclear capabilities, but the ideological military core of Iran.”

    এমন বক্তব্য ইঙ্গিত দেয়, কেবল পরমাণু হুমকি নয়, ইরানের পুরো শাসনব্যবস্থাকেই ধ্বংসের লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও প্রভাবশালী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৬ জুন সাংবাদিকদের বলেন:

    > “I’m not asking for a ceasefire. We want a real end, a complete give-up by Iran.”

    এই বক্তব্য অনেক বিশ্লেষকের কাছে একপ্রকার ‘সহানুভূতিপূর্ণ সমর্থন’ হিসেবে ধরা হয়—যেখানে ইরানের আত্মসমর্পণ বা ক্ষমতা বদল ছাড়া কোনো শান্তির সুযোগ নেই বলে মনে করা হয়।

    ইরানের জবাব: “শুধু পরমাণু নয়, আমাদের আদর্শই লক্ষ্যবস্তু”

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন:

    > “Israel has committed a crime and will receive harsh punishment. Their goal is not just our nuclear facilities, they want to dismantle the Islamic Republic.”

    ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা ড্রোন হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু হয়, যার বেশ কয়েকটি ইসরায়েলের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটায়।

    মুসলিম বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক ইসলামি নেতাদের প্রতিক্রিয়া :
    ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সংস্কারপন্থী নেতা মুহাম্মদ খাতামি বলেন:

    > “This is a direct aggression against a sovereign Islamic government… The UN and Muslim nations must act before this turns into a global disaster.”

    তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও কাতারের নেতারাও একাধিকবার ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানান।

    যুদ্ধের সময়রেখা: ১৩–১৭ জুন

    ১৩ জুন ইসরায়েলের “Operation Rising Lion” চালু; পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা ১৪ জুন ইরানের প্রথম পাল্টা হামলা; ইসরায়েল দাবি করে তারা আরও ৩৫টি স্থাপনায় আঘাত হানে ১৫ জুন মার্কিন হুঁশিয়ারি: “আমরা চাই ইরানের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ”; যুদ্ধের পরিধি বাড়ে ১৬ জুন নেতানিয়াহুর ইঙ্গিত: “এই যুদ্ধ ইরানি জনগণকেও জাগিয়ে তুলবে”; ইসলামি নেতাদের কড়া প্রতিক্রিয়া ১৭ জুন ইরানের দ্বিতীয় দফা ড্রোন হামলা; ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কমান্ডার নিহত

    যুদ্ধ এখন আর কেবল পারমাণবিক অস্ত্রভিত্তিক কোনো দ্বন্দ্ব নয়। ইসরায়েলের নেতৃত্ব ও সামরিক আক্রমণের প্রকৃতি দেখে স্পষ্ট হয়—তারা ইরানের আদর্শিক, সামরিক এবং রাজনৈতিক ভিত্তিকে ধ্বংস করে দিতে চায়। এটি এক প্রকার ‘রেজিম চেঞ্জ’ মিশন, যেখানে ইরানের ইসলামী শাসনের পতনই লক্ষ্য।যুদ্ধ থামবে কিনা, সে উত্তর এখন সময়ের হাতে। তবে এটুকু নিশ্চিত—এই সংঘর্ষের ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

    আরও খবর

    Sponsered content

    Developed by : BDIX ROOT