• Developed by : BDIX ROOT
  • আইন ও আদালত

    উল্লাপাড়ায় ভন্ড কবিরাজের ফাঁদে নিঃস্ব হাজারও মানুষ

      প্রতিনিধি ৪ অক্টোবর ২০২৪ , ৫:৫২:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ

    কে,এম, শাওন-সিরাজগঞ্জ:

    মাটিতে ঘর আঁকিয়ে ঘরের ভিতরে জায়নামাজ বিছিয়ে কাচের গ্লাসে আতর  পানি রেখে এবং সেই পানির উপরে  মৃত ব্যক্তির হার-মাথা রেখে  ধুপ শালা ও মোমবাতি জ্বালিয়ে আসন দিয়ে  জিন হাজির করে এবং সেই  জিনের মাধ্যমে মরণব্যাধি ক্যান্সার,  দাম্পত্য কলহ,  ছেলেমেয়েদের গোপন রোগ, বিয়ে না হওয়া,প্রেমে ব্যর্থতা , চাকরি না পাওয়া, জমিজমার ঝামেলা, পছন্দের নারীকে বশ করার, বাণ মারা  ও প্যারালাইসিসসহ নানা ধরনের রোগ ভালো করে দেওয়ার কথা বলে রোগীদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা  হাতেয়ে নিচ্ছে ভন্ড কবিরাজ ফয়সাল।

    তার কাছে থাকা জ্বিন তাকে সহযোগিতা করে বলে তিনি রোগীদেরকে বোঝান। এসব ক্ষেত্রে তিনি প্রতারণার অংশ হিসাবে প্রতি রবি ও মঙ্গলবার সকাল ১০’টা  থেকে  বিকেল ৪’টা পর্যন্ত  নিজ বাড়িতে আসন বসান। এসময় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে যারা আসেন তাদের বলেন,  বাড়িতে তাবিজ  কারো বাড়িতে শামুক  পুঁতে রাখা আছে এবং এ কারণেই বিভিন্ন সমস্যায় ভূগছেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে জ্বিনের সাহায্যে এসব তাবিজ বা গাছ তুলে এনে সমস্যার সমাধান করে দেয়ার আশ্বাস দেন। এজন্য ভন্ড কবিরাজ প্রথমে ৩’শ টাকা ফি নেন। এরপর বাড়ি বন্ধ করার জন্য ইচ্ছে মতো টাকা নেওয়া সহ তাবিজ দেয়ার জন্য হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। 

    ভন্ড কবিরাজ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা ইউনিয়নের চক চবিলা গ্রামর মৃত, শাজাহান আলীর ছেলে  ফয়সাল আহমেদ (২০) তিনি কুষ্টিয়া পলিটেকনিকের  ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রথম বর্ষের ছাত্র । এই  ভন্ড  কবিরাজে ফাঁদে পড়ে  প্রতারিত হচ্ছেন  গ্রামের সহজ সরল হাজারো মানুষ, এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। এ ঘটনায় প্রতারণার স্বীকার লোকজনসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।চিকিৎসা নিতে আসা ইভা খাতুন বলেন, আমার শাশুড়ি আমাকে দেখতে পারেনা তাই  এসেছি, জাফরান কালিপারা দিয়েছে মিষ্টির সাথে মিশিয়ে শাশুড়িকে খাওয়াতে হবে। 

    চিকিৎসা নিয়ে প্রতারণার শিকার নাজমা খাতুন বলে,৫ হাজার  টাকার বিনিময়ে আমাকে একটি তাবিজ দেন, কিন্তু কিছুই হয়নি। নাম প্রকাশ না করা স্বার্থে একজন বলে আমার বাড়িতে প্রতিপক্ষের পুঁতে রাখা তাবিজ তুলে দেয়া এবং আমার শরীর বন্ধ করার ও  তাবিজ বাবদ বেশ কিছু টাকা নেন। কিন্তু কোন রকম কাজ না হওয়ায় আমি তাবিজ খুলে দেখি তার ভিতরে কিছুই নেই, শুধু মোম দিয়ে আটকানো। এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালে মোহাম্মদ হাসনাত  জানান,এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে, প্রয়োজনীয় আইনগত  ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    আরও খবর

    Sponsered content

    Developed by : BDIX ROOT