প্রতিনিধি ২৫ এপ্রিল ২০২৫ , ৯:৫৯:০৩ প্রিন্ট সংস্করণ
আরিফুল ইসলাম কারীমী-স্টাফ রিপোর্টারঃ
আজ শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) বরিশাল সদর থানার চরকাউয়া ইউনিয়নের সাতানী ট্রলারঘাট জামে মসজিদ থেকে শুরু হয়ে চৌমাথা কেন্দ্রীয় মসজিদ হয়ে এ মিছিল চরকাউয়া নয়ানী আজদ স্কুল মাঠে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এতে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন, সাতানী ট্রলারঘাট জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব, মুফতী আরিফুল ইসলাম কারীমী এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,নয়ানী চৌমাথা মসজিদের ইমাম ও খতীব,মাওলানা নুর উদ্দিন নিরব। বিক্ষোভ সমাবেশের শুরুতে কুরআন তেলওয়াত করেন, হাফেজ মাওলানা রেজাউল ইসলাম। এতে আরও বক্তব্য প্রদান করেন, মনিরুল হক্ব, রায়হান উদ্দিন,সোহেল আহম্মেদ প্রমুখ। এ সময় বিক্ষোভকারীরা “নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার”, “ফিলিস্তিন ফিলিস্তিন, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ”; “কাষ্মীর কাষ্মীর, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ”; “ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি”; “ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন, ফ্রি ফ্রি গাজা” সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
মুফতী আরিফুল ইসলাম কারীমী বলেন, “ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলি ও ভারতে বিভিন্ন প্রদেশে মুসলিমদের ওপর হামলা একটি পরিকল্পিত গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের দৃষ্টান্ত। এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনে ৫১ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। লাখ লাখ মানুষ আহত ও গৃহহীন হয়েছে।”। তিনি আরও বলেন, “৭৭ বছর আগে জোরপূর্বক ফিলিস্তিন দখলের মাধ্যমে ইসরায়েলি জায়নবাদ যে সহিংসতা শুরু করেছিল, তা এখনও চলছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার কথা বলে যে পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদের শ্রেষ্ঠ দাবী করে, তারাই আজ ইসরায়েলের এই গণহত্যাকে সমর্থন করছে। জাতিসংঘও দায়িত্বহীনভাবে কেবল বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছে, কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”
তিনি দাবি করেন, জাতিসংঘকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে হবে, হামলা বন্ধে বিশ্বসম্প্রদায়কে বাধ্য করতে হবে, আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
পরিশেষে তিনি বিশ্বের বিবেকবান মানুষদের ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এবং ইসরায়েলি ও ভারতীয় পণ্য বর্জনের আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি মাওলানা নুর উদ্দিন নিরব বলেন, আমরা দেখছি সারা বিশ্বে মুসলিমরা নির্যাতিত। ফিলিস্তিন ও ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে। এখন গাজার যে অবস্থা এ সময় জিহাদ ছাড়া উপায় নেই।
জনাব মনিরুল হক্ব (অবঃ নৌ বাহিনীর সদস্য) বলেন, আমাদের এখন বক্তব্য দেওয়ার সময় নয়। আমরা অনেক সমবেদনা, একাত্মতা দেখেছি। আমাদের এখন অ্যাকশনে চলে যেতে হবে। আমরা মুসলিমদের একত্র হতে হবে। আমেরিকার অ্যাম্বাসি ঘেরাও করে লাভ নেই। আমাদের মুসলিম দেশগুলোকে জাগাতে হবে। ইরান, ইরাক, সৌদি আরব, মিশরকে জাগাতে হবে। এখন ফিলিস্তিনের ওপর হামলা হত্যা চলছে, কিছুদিন পর দেখবেন আপনাদের ওপর হামলা হবে। এরপর সৌদি, মিশরও পার পাবে না।
যুবনেতা রায়হান উদ্দিন বলেন, আমাদের ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে সংহতি সমাবেশ করেছি। আমাদের সরকারের প্রতি আহ্বান, বাংলাদেশ থেকে ইসরায়েলি গণহত্যার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করতে হবে। আজকের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আল্লাহর কাছে প্রতিজ্ঞা করতে হবে ইসায়েলি সব পণ্য বর্জন করবো। আমেরিকা আমাদের বন্ধু নয়। ইসরায়েলি গণহত্যায় মদদদাতাদের অন্যতম এ আমেরিকা।
আরেক যুবনেতা সোহেল আহমেদ বলেন, ফিলিস্তিন মুসলমানদের প্রাণের স্পন্দন আল-আকসা মসজিদ আজ আগ্রাসনের মুখে। ইসলামের প্রথম কিবলা ও ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরপুর পবিত্র এ স্থানকে ঘিরে ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরতা ও ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নির্বিচার হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধ। অবিলম্বে এ গণহত্যা বন্ধে আন্তর্জাতিক মহলের কঠোর হস্তক্ষেপ নিতে হবে।


















