প্রতিনিধি ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ , ৯:০০:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ
জুনায়েদ কামাল-স্টাফ রিপোর্টার:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গণিপুরে জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধে দীর্ঘ দিন যাবত পরিবারের ১৫ জন সদস্য নিয়ে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করে আসছেন গণিপুরের ভাইয়ার দোকান সংলগ্ন মৃত আক্তার হোসেনের স্ত্রী মহিপুল বেগম।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ধসে গেছে মহিপুল বেগমের বসত ভিটা। উপড়ে পড়েছে বিশাল কড়ই গাছ। বসতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে একমাত্র অবলম্বন মাথা গোঁজার ঠাঁই। ঘর মেরামতে গাছ কাটতে গেলে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় একই বাড়ির আব্দুল হান্নান ও তার লোকজনেরা। নিরুপায় হয়ে ঘুরছেন ধারে ধারে। পাচ্ছেন না কোনো সুবিচার।
মহিপুল বেগমের বড় ছেলে সোহাগ নিউজ প্লাস টেলিভিশনকে জানান, আমার দাদা আহছান উল্লাহ মুন্সি হারিছা খাতুনের কাছ থেকে ১৯৫৭ ইং সনে কবলা মূলে ৩২৫, ৩২৭ ও ৩২৯ নং দাগে সাড়ে উনিশ শতাংশ জমি ক্রয় করেন।
আহছান উল্লার মৃত্যুর পর ১৯৯৫ ইং সনে তার একমাত্র পুত্র আক্তার হোসেনের সাথে বিরোধে জড়ায় ইউনুছ মিয়ার ছেলে আব্দুল হান্নান ও তার ভাইয়েরা। ধীরে ধীরে নেমে আসে আক্তার হোসেনের পরিবারের উপর অমানবিক নির্যাতন। পেশীশক্তির জোরে শেষ সম্বল টুকু কেড়ে নিতে চায় আব্দুল হান্নান ও তার ভাইয়েরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহুবার শালিসি বৈঠক হলেও আব্দুল হান্নান ও তার ভাইয়েরা দলেবলে বলিয়ান হওয়ায় মানেনি কোনো শালিসি বৈঠক। ২০১৩ সালে আক্তার হোসেনের মৃত্যুর পর তারই দুই ছেলে মোঃ সোহাগ ও মিলনের উপর নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। যে বয়সে টানবে সংসারের হাল, সে বয়সে টানতে হচ্ছে মামলা মোকদ্দমার ভার। বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী নেতা কর্মীদের ছত্রছায়ায় থেকে তাদের দাপটে, থানা কোর্ট কাছারিতে ঘুরেও পাইনি কোনো সুবিচার। তাদের ভয়ে মুখ খুলতে রাজি নয় স্থানীয় লোকজন।
আক্তার হোসেনের ছোট ছেলে মিলন নিউজ প্লাস টেলিভিশনকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় ধরতে পারছি না সংসারের হাল। আমার বড় ভাই লেবারের কাজ করে কোনো রকমে চালাচ্ছেন ব্যয়বহুল সংসার। মামলা হামলার ভয়ে থাকতে পারছি না বসত ভিটায়। সুবিচারের আশায়, বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যেনো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকু শান্তিতে বসবাস করার সুযোগ করে দেয়া হয়।

















